স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সাত মাস বয়সী শিশুসন্তানকে ফিরে পেয়েছেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আপাতত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালত জানান, শিশুর সর্বোচ্চ কল্যাণ ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় এই মুহূর্তে মায়ের কাছেই থাকা তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় জুঁইয়ের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জুঁই অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ে করেন শাকিল। চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর তাকে শিশুটিকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সন্তানের কাছে ফিরতে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই তিনি ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর আদালত অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা আদালতে উপস্থিত হননি। পরে আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। এরপর শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
শুনানির সময় বিচারক মন্তব্য করেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে এত অল্প বয়সে তিনি একজন সন্তানের মা। বয়সের দিক থেকে জুঁই নিজেও একজন শিশু বলেও পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
জুঁইয়ের আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে শিশুকেও তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়।
অন্যদিকে শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতে পৃথক একটি মামলাও করেছেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।
আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply