অনলাইন ডেক্সট।
কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের আমিনবাজারের বাসিন্দা আহম্মেদ বাবুকে দাফন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে হিজলা পাঁচ মসজিদ বালুর মাঠে জানাজা শেষে আমিনবাজার কেন্দ্রীয় (বরদেশী) কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মেজো ভাই মনির হোসেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বেনাপোল দিয়ে আহম্মেদ বাবুসহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার ভোরে কফিনবন্দি বাবুর মরদেহ নিয়ে আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান তার ভাই মনির। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। সন্তান হারানোর শোকে মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
বাবুকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, আহম্মেদ বাবু ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। এলাকায় তার ভালো সুনাম ছিল।
নিহত আহম্মেদ বাবুর বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর। তিনি বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে এবং চার ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। স্ত্রী ছাড়াও তার সংসারে রয়েছে আট বছর বয়সী মেয়ে রোজা ও পাঁচ বছরের ছেলে সোয়াদ।
বেগুনবাড়ি এলাকার এমএ হোসেন টাওয়ারে ‘কিউট কসমেটিক্স’ নামে একটি প্রসাধনীর দোকান পরিচালনা করতেন বাবু। ব্যবসার প্রয়োজনে দোকানের জন্য প্রসাধনী সামগ্রী কিনতেই কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন বাবু। সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন। তবে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের ভাই মনির হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ফোন করে বাবুর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর দেশে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শোকেই বাবুর পরিবারকে বিদায় জানাতে হলো তাকে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply