স্টাফ রিপোর্টার
:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় যৌতুকের টাকা দাবি করে এক গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার গোবিন্দ বর্মণের মেয়ে বিজুটি রানীর সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার বিদ্যুৎ বর্মণের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিজুটি রানী স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিদ্যুৎ বর্মণ, শাশুড়ি সুজলা রানী বর্মণ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিজুটি রানীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কালিয়াকৈর থানাধীন জানপাড়া এলাকার একটি বাড়ির উঠানে বিজুটি রানী কাজ করছিলেন। এ সময় স্বামী বিদ্যুৎ বর্মণ তার কাছে যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার বাম হাতের বাহুতে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় বিজুটি রানীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহত বিজুটি রানী বাবার বাড়িতে ফিরে এলে তার বাবা তাকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা গোবিন্দ বর্মণ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply