অনলাইন ডেক্সট : গ্যাসের তীব্র সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত তিন দিন যুক্ত করে অধিকাংশ তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং কারখানায় এ ছুটি কার্যকর করা হয়েছে।
কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাড়িমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় অনেক শ্রমিককে বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক কারখানাই উৎপাদন সীমিত করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে চার দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
আমবাগ এলাকার তাপস পিএন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার তালুকদার বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গার্মেন্টস শাখায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সটাইল বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ওই দিনের কাজ সমন্বয় করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই তথ্য দিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, বিভিন্ন কারখানায় তিন থেকে চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে, যা মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply